Stay Tuned!

Policy Praxis exists to bridge the gap between knowledge and public discourse in Bangladesh. We translate scholarly research, government data, and field-level practice into concise, evidence-based, policy-relevant writing in both Bangla and English.

Analysis Health

বাংলাদেশের টিকা-সিদ্ধান্তের জটিলতা এবং হামের বর্তমান প্রাদুর্ভাব

র্তমানে বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। কিন্তু কথা বলার আগে একটু থেমে ভাবা দরকার: আমরা কি পুরো প্রক্রিয়াটা জানি? নাকি শুধু তার ফলাফল দেখেই কারণ খুঁজে নিচ্ছি? তদন্ত ছাড়া, প্রমাণ ছাড়া, আর সিদ্ধান্তগ্রহণের ভেতরের বাস্তবতা না বুঝে কাউকে বা কোনো প্রতিষ্ঠানকে দোষী সাব্যস্ত করা ন্যায্য নয়। কয়েক বছর আগে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের পরামর্শক হিসেবে বাংলাদেশে টিকা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগ্রহণ নিয়ে আমি একটি গবেষণা করেছিলাম। উদ্দেশ্য ছিল বোঝা—একটি টিকা দেশে আনার সিদ্ধান্ত আসলে কীভাবে হয়, কারা এতে প্রভাব ফেলে, এবং কোথায় কোথায় ব্যবস্থাগত দুর্বলতা থাকে। সেখানে এমন কিছু বিষয় উঠে আসে যা পরবর্তীতে গবেষণার অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান এবং গবেষণাটি বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান—কেউই প্রকাশ করতে রাজি হয়নি। পরামর্শক হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হওয়ায় আমিও গবেষণার উপাত্ত প্রকাশে অপারগ। কিন্তু সে ঘটনা থেকে একটি বিষয় বুঝতে পারি, তা হলো, টিকার বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং জটিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার হয়েছিল: টিকার বিষয়টি কেবল স্বাস্থ্যনীতি নয়, এটি প্রশাসন, রাজনীতি, অর্থায়ন, সক্ষমতা, সমন্বয়, এবং আস্থার এক জটিল মিশ্রণ।

এই লেখায় আমি সেই গবেষণার নির্দিষ্ট উপাত্ত বা গোপন বিষয় বলছি না। তবে ব্যক্তিগতভাবে কী শিখেছি, কী বুঝেছি, সেটাই সহজ ভাষায় তুলে ধরতে চাই। কারণ হামের মতো রোগের প্রাদুর্ভাব বুঝতে হলে শুধু “টিকা ছিল কি ছিল না” এই প্রশ্নে থেমে গেলে হবে না। দেখতে হবে, কেন সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হয়, কেন বাস্তবায়ন দুর্বল হয়, আর কেন কখনও কখনও ভালো সিদ্ধান্তের ফলফলও শেষ পর্যন্ত জনগণের কাছে ঠিকভাবে পৌঁছায় না।

সিদ্ধান্তের ভেতরে যারা থাকেন, তারা সবসময় কি যথেষ্ট প্রস্তুত? বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় টিকা বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্বে থাকা লোকজন সবসময় যে প্রয়োজনীয় জনস্বাস্থ্য দক্ষতা, রোগতত্ত্ব-জ্ঞান, স্বাস্থ্য অর্থনীতির ধারণা, বা কর্মসূচি পরিকল্পনার অভিজ্ঞতা নিয়ে আসেন—তা নয়। আমাদের স্বাস্থ্য প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে প্রতিকারমূলক বা clinical-centric চিন্তাভাবনা দ্বারা বেশি পরিচালিত হয়ে আসছে। অর্থাৎ রোগীর চিকিৎসাই এখানে মূখ্য, কিন্তু জনস্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্যব্যবস্থাভিত্তিক বা প্রতিরোধমূলক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা এখানে অনুপস্থিত। টিকা-সিদ্ধান্তে যাঁরা যুক্ত, তাঁদের অনেকেরই ভূমিকা স্পষ্ট নয়; কার দায়িত্ব কতটুকু, কে কাকে জবাবদিহি করবেন, সেই কাঠামোও সবসময় পরিষ্কার নয়। কোথাও দক্ষতার ঘাটতি আছে, কোথাও অভিজ্ঞতার, কোথাও আবার নির্দিষ্ট জনস্বাস্থ্য দৃষ্টিভঙ্গির অভাব। স্বাস্থ্য প্রশাসনের নিয়োগও এর জন্য অনেকাংশে দায়ী। এখানে প্রায়ই রাজনৈতিক বিবেচনায় এমন ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়, যাদের না আছে জনস্বাস্থ্যে প্রশিক্ষণ, না আছে অঙ্গীকার। আবার তাদের মাথার ওপর বসিয়ে দেওয়া হয় স্বনামধন্য কোনো ক্লিনিশিয়ান বা চিকিৎসককে, যাঁর কস্মিনকালেও প্রশাসন সামলানোর অভিজ্ঞতাই হয়তো ছিলনা। ফলে টিকা নিয়ে সিদ্ধান্ত ও কাজের বাস্তবায়ন প্রশাসনিক স্তরেই আটকে যায়।

এটা কোনো একজন ব্যক্তির ব্যর্থতা নয়। এটা পুরো ব্যবস্থার দুর্বলতা। আর এই দুর্বলতা থাকলে নতুন টিকা আনা, তার জন্য আবেদন করা, অর্থায়ন নিশ্চিত করা, এবং মাঠপর্যায়ে তা কার্যকর করা—সবকিছুই কঠিন হয়ে পড়ে। সেটা যেই দল বা ব্যক্তিই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকুক।

বাইরের প্রভাব: সহায়তা, না কি চাপ? উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, আন্তর্জাতিক সংগঠন, দাতা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, পেশাজীবী সংগঠন—এরা সবাই কোনো না কোনোভাবে টিকা-সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখে। তাদের সবার প্রভাব নেতিবাচক, এমন নয়। বরং অনেক ক্ষেত্রে তারা মূল্যবান তথ্য, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, রোগের বোঝা (burden of disease)  নিয়ে বিশ্লেষণ, এবং কারিগরি সহায়তা দেয়। এই সহায়তা ছাড়া অনেক দেশেই টিকা-সিদ্ধান্ত এগোয় না। কিন্তু সমস্যা শুরু হয় তখনই, যখন স্থানীয় অগ্রাধিকার পেছনে পড়ে যায়। কিছু উন্নয়ন অংশীদার এমনভাবে প্রভাব ফেলেন যেন সিদ্ধান্তটি দেশীয় নয়, বাইরের কারও এজেন্ডা থেকে আসছে। কেউ কেউ মনে করেন, এ ধরনের প্রভাব কখনও কখনও নীতিনির্ধারণের স্বাভাবিক সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে দেয়। কেউ কেউ আবার এটাকে ইতিবাচকভাবে দেখেন—তাদের মতে, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বৈশ্বিক প্রমাণ (evidence) আনে, তুলনামূলক তথ্য দেয়, এবং সরকারের সিদ্ধান্তকে শক্তিশালী করে। অর্থাৎ, বিষয়টি সাদা-কালো নয়। বাইরের সহায়তা প্রয়োজনীয়, কিন্তু সেই সহায়তা যদি অতিরিক্ত নির্ভরতার রূপ নেয়, তাহলে দেশ নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে না। আর যখন সিদ্ধান্তের ভার অন্যের ওপর চলে যায়, তখন দায়িত্ববোধও ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যায়। বিষয়টি আরও তীব্র রূপ নেয় যদি স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রশাসকদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা না থাকে।

বিশেষজ্ঞ নয়, তবে প্রভাবশালী: কিছু পেশাজীবী সংগঠন, কিছু গবেষণা প্রতিষ্ঠান, এমনকি কিছু টিকা প্রস্তুকারী প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় প্রতিনিধি—এরা নীতিনির্ধারণে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। অনেক ক্ষেত্রে সেটা স্বাভাবিক। কারণ যাদের রোগ বা টিকা নিয়ে বিশেষ জ্ঞান আছে, তাদের মতামতও দরকার। কিন্তু যখন মতামত চাপ বা লবিংয়ে রূপ নেয়, তখন সমস্যা তৈরি হয়। একইভাবে গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অনেক নতুন টিকার সিদ্ধান্ত নির্ভর করে স্থানীয় তথ্যের ওপর। রোগের প্রকোপ, শিশু মৃত্যুর হার, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী, এবং টিকার সম্ভাব্য প্রভাব—এসব বুঝতে গবেষণা লাগে। কিন্তু গবেষকরা যদি কখনও টিকার বিষয়ে অনভিপ্রেত চাপ দেন, তখন সিদ্ধান্তগ্রহণের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এখানেও যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ তা হলো, প্রশাসকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতা। গবেষকরা ভালো বা মন্দ যেমন প্রভাবই রাখুন না কেন, মূল সিদ্ধান্ত নিতে হয় প্রশাসক ও ক্ষেত্রবিশেষে স্বাস্থ্যনীতিনির্ধারকদের। তাদের সক্ষমতা নিশ্চিত করা তাই একান্ত প্রয়োজনীয়।

Gavi-তে আবেদন কেন আটকে যায়? নতুন টিকা আনার একটি বড় ধাপ হলো Gavi-র মতো অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানে আবেদন করা। বাইরে থেকে এটা সহজ মনে হতে পারে—একটি আবেদন, একটি অনুমোদন, তারপর টিকা। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি এত সহজ নয়। এর জন্য দরকার কাগজপত্র, পরিকল্পনা, নীতিগত যুক্তি, বাস্তবায়নের কৌশল, অর্থনৈতিক হিসাব, সমন্বিত টিম, এবং সময়মতো কাজ শেষ করার সক্ষমতা। বাংলাদেশে অনেক সময় এই প্রস্তুতিমূলক কাজগুলো দুর্বল থাকে। কখনও সঠিক জনবল থাকে না, কখনও কাজের ভারসাম্য থাকে না, কখনও আবার কর্মকর্তারা বারবার বদলান। ফলে যারা শুরু করেন, তারা শেষ করতে পারেন না। নতুন কর্মকর্তা এলে আবার নতুন করে বোঝাতে হয়। এভাবে গতি কমে যায়। আরও একটি বড় সমস্যা হলো, সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে ভেতর থেকেই সন্দেহ তৈরি হতে পারে। যদি মনে হয়, কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী চাপ দিচ্ছে, বা সিদ্ধান্তের পেছনে স্বার্থ আছে, তাহলে আবেদন করার প্রক্রিয়াও আটকে যেতে পারে। অনেক সময় এই প্রশ্ন উঠে আসে: “এটা কি সত্যিই জনস্বাস্থ্যের প্রয়োজনে হচ্ছে, নাকি কারও পছন্দ বা অগ্রাধিকারের কারণে?” এই ধরনের সন্দেহ Gavi আবেদনকে ধীর করে দেয়। এর পরেও যদি আবেদন জমা হয়, তা অসম্পূর্ণ বা দুর্বল হলে অনুমোদন পেতে দেরি হয়। আর সেই দেরি মানে মাঠপর্যায়ে টিকা পৌঁছাতে দেরি, আর দেরি মানে রোগ প্রতিরোধে ফাঁক তৈরি হওয়া।

সিদ্ধান্ত হয়ে গেলেও কাজ শেষ হয় না। একটি টিকা আনার সিদ্ধান্ত হয়ে গেলেও বাস্তবে তা আটকে যেতে পারে। কখনও প্রশাসনিক জটিলতায়, কখনও রাজনৈতিক প্রভাবে, কখনও আবার সরবরাহ সমস্যায়। অর্থাৎ সিদ্ধান্ত আর বাস্তবায়ন এক জিনিস নয়। এই ফারাকটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অনেকেই মনে করেন, “সরকার তো সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাহলে টিকা এল না কেন?” উত্তরটা সহজ নয়। সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরেও বাজেট, সরবরাহ, প্রশিক্ষণ, কোল্ড চেইন, জনবল, পরিবহন, এবং কমিউনিটির গ্রহণযোগ্যতা—সবকিছু ঠিকঠাক লাগাতে হয়। এই সেতু তৈরি না হলে সিদ্ধান্ত কাগজেই থেকে যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জরুরি টিকা সম্পর্কিত ফোকাস হারিয়ে যেতে পারে। নতুন কর্মকর্তা আসেন, আগের প্রতিশ্রুতি ঝুলে থাকে, আর অগ্রাধিকার বদলে যায়। তখন যে গতি দরকার, তা থাকে না। একটি টিকার সিদ্ধান্ত থেকে বাস্তব প্রয়োগ পর্যন্ত যে ২–৩ বছরের সময় লাগতে পারে, সেই দীর্ঘ সময়ে অনেক কিছু বদলে যায়।

হাম কি এই দুর্বলতার সঙ্গে যুক্ত? সরাসরি এক লাইনে বলা ঠিক হবে না যে “এই কারণেই হাম বেড়েছে।” কিন্তু সম্ভাব্য সম্পর্কটা বোঝা জরুরি। হাম এমন একটি রোগ, যা টিকাদান কভারেজ দুর্বল হলে দ্রুত মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। যদি রুটিন টিকাদান ঠিকমতো না চলে, যদি ক্যাচ-আপ ব্যবস্থা দুর্বল হয়, যদি মাঠপর্যায়ে নজরদারি কমে যায়, তাহলে হাম ছড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়। অর্থাৎ, হামের প্রাদুর্ভাব কেবল একটি রোগের সমস্যা নয়; এটি টিকাদান ব্যবস্থার দুর্বলতারও ইঙ্গিত হতে পারে। আর সেই দুর্বলতার পেছনে অনেক স্তর কাজ করে—সিদ্ধান্ত, বাস্তবায়ন, অর্থায়ন, সক্ষমতা, সমন্বয়, এবং আস্থা।

এরকম অবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি টিকা সক্ষমতা তৈরিতে বেশ কিছু করনীয় রয়েছে।

প্রথমত, দেশের ভেতরের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। টিকা সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত কমিটিগুলোতে জনস্বাস্থ্য, রোগতত্ত্ব, স্বাস্থ্য পরিকল্পনা, এবং স্বাস্থ্য অর্থনীতির দক্ষ লোক থাকতে হবে। শুধু পদ থাকলেই হবে না; দক্ষতা থাকতে হবে।

দ্বিতীয়ত, দায়িত্ব ও ভূমিকা স্পষ্ট করতে হবে। কে কী করবে, কোন কমিটির কাজ কী, কোথায় থামবে আর কোথায় এগোবে—এগুলো পরিষ্কার না হলে দেরি হবেই। সিদ্ধান্তগ্রহণের প্রক্রিয়া যত স্বচ্ছ হবে, তত আস্থা বাড়বে।

তৃতীয়ত, বাইরের সংস্থা ও দাতাদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে হবে। সহযোগিতা প্রয়োজন, কিন্তু নির্ভরতা নয়। দেশকে এমন অবস্থায় যেতে হবে, যেখানে নিজের অগ্রাধিকার নিজেরাই ঠিক করতে পারে।

চতুর্থত, Gavi বা অন্য অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানে আবেদন করার জন্য আলাদা প্রস্তুতিমূলক সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। ডাটা, পরিকল্পনা, বাজেট, সমন্বয়, এবং জবাবদিহির ব্যবস্থা না থাকলে শুধু ভালো উদ্দেশ্য দিয়ে কাজ হবে না।

পঞ্চমত, জনসচেতনতা ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়নকে শক্তিশালী করতে হবে। টিকা শুধু কেনা বা আনার বিষয় নয়; সেটি শিশুদের কাছে পৌঁছানো, পরিবারকে বোঝানো, এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সক্ষম করার বিষয়ও।

সবশেষে, সবচেয়ে জরুরি হলো—দোষারোপের আগে বোঝা। আমরা যদি স্বাস্থ্যব্যবস্থার জটিলতা না বুঝে একে-ওকে দোষ দিই, তাহলে সমস্যার মূলে পৌঁছাতে পারব না। টিকার সিদ্ধান্তের পেছনে বহু স্তরের বাস্তবতা থাকে। তাই কোনো ব্যক্তিকে, কোনো প্রতিষ্ঠানকে, কিংবা কোনো গোষ্ঠীকে দায়ী করার আগে আমাদের জানতে হবে—সিদ্ধান্তটি কীভাবে হয়, কোথায় আটকে যায়, আর কেন এগোয় না।

হাম আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, জনস্বাস্থ্য কখনও একক ঘটনাকে কেন্দ্র করে বোঝা যায় না। এর পেছনে থাকে একটি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সক্ষমতা, বা তার ঘাটতি। আর সেই ঘাটতি পূরণ করতে হলে নিজেদের ভেতরকার শক্তি গড়ে তুলতেই হবে। স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে। স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়নে উপযুক্ত ও প্রশিক্ষিত ব্যক্তিদের যুক্ত করতে হবে। সর্বোপরি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার, বিশেষতঃ টিকা সংক্রান্ত, সিদ্ধান্ত গ্রহণ হতে হবে প্রমাণ বা evidence নির্ভর।

    Taufique Joarder

    Taufique Joarder

    About Author

    Dr. Taufique Joarder is an Associate Professor and the Lead of the Programme Evaluation Unit at the SingHealth Duke-NUS Global Health Institute, Duke-NUS Medical School under the National University of Singapore With a doctorate in public health in health policy and systems from the Johns Hopkins Bloomberg School of Public Health, he has 16 years of experience in health policy and systems research, implementation research and evaluation. He has taught global health and research methods and published extensively, with 46 peer-reviewed articles and 10 books/chapters. His background includes a consultancy position at the World Health Organization headquarters, leadership at Family Health International (FHI 360), faculty roles at BRAC and North South University, and significant policy and media engagement. He is also an Editor of BMC Globalization and Health, an alumnus of Emerging Voices for Global Health (EV2010), and a board member of Health Systems Global. His areas of expertise include health and nutrition policy, human resources for health, implementation science, program evaluation, and psychometrics. He also serves as the Advisor of the Public Health Foundation, Bangladesh.

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    Insights – Evidence – Impact: bridging knowledge, policy and practice in Bangladesh and beyond.

    Get the latest articles at your inbox

      We welcome contributions from researchers, practitioners, policymakers, and informed commentators.

      Policy Praxis @2026. All Rights Reserved.